• সোমবার   ০৩ আগস্ট ২০২০ ||

  • শ্রাবণ ১৯ ১৪২৭

  • || ১৩ জ্বিলহজ্জ ১৪৪১

আজকের খুলনা
২১

খুলনায় রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকলের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পাবে সরকারি সুবিধা

আজকের খুলনা

প্রকাশিত: ৪ জুলাই ২০২০  

সরকারি সিদ্ধান্তে রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকল বন্ধ ঘোষণা করা হলেও এসব মিল কর্তৃক পরিচালিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান চালু রাখা হচ্ছে। মিলের আওতায় থাকা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো পাবে সরকারি বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা। এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সরকারীকরণ/এমপিওভুক্তির জন্য প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়/শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে বলা হয়েছে।

খুলনা অঞ্চলের দুটি প্রাথমিক বিদ্যালয়, দুটি নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও নয়টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়সহ ১৩টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এ সুবিধার আওতায় আসছে।

খুলনা মহানগর আওয়ামী লীগ সভাপতি ও সিটি মেয়র আলহাজ তালুকদার আব্দুল খালেক এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, অতীতে কোনো সরকার শ্রমিকের ভাগ্যোন্নয়নে বা শ্রমিকদের পরিবারের সদস্যদের জন্য এ ধরনের উদ্যোগ নেয়নি। মিল বন্ধ করলেও তারা সামগ্রিকভাবে সবই বন্ধ করে দেয়। কিন্তু এক্ষেত্রে নতুন উদাহরণ সৃষ্টি করলেন বঙ্গবন্ধুকন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

বাংলাদেশ পাটকল করপোরেশনের (বিজেএমসি) খুলনা জোনাল সমন্বয়কারী বনিজ উদ্দিন মিয়া বলেন, পাটকল বন্ধ করা ও শ্রমিকদের সুযোগ-সুবিধা নিয়েই এখন পর্যন্ত সিদ্ধান্ত হয়েছে। পাটকলের কর্মকর্তা-কর্মচারী বা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নিয়ে এখনো সুস্পষ্ট কোনো দিকনির্দেশনা বিজেএমসি থেকে তাকে জানানো হয়নি।

শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী বেগম মন্নুজান সুফিয়ান এমপি বলেন, খুলনা অঞ্চলের রাষ্ট্রায়ত্ত নয়টি পাটকলে প্রায় ১১ হাজার কোটি টাকা বিজেএমসিকে সরকার ভর্তুকি দিয়েছে। তার পরও এ মিলগুলো কোনো লাভ তো দূরের কথা, আসল টাকারও হদিস নেই। এমনকি শ্রমিকদের ন্যায্য পাওনাও পরিশোধ করা হয়নি। এ কারণেই শ্রমিকদের দুর্দশা এবং পাটকলকে আধুনিকায়নের কথা বিবেচনা করে গোল্ডেন হ্যান্ডশেকের মাধ্যমে শ্রমিকদের ন্যায্য পাওনা শ্রম আইন ২০০৬ এর ধারা-২৬ এর উপধারা (৩) অনুযায়ী নগদ ও সঞ্চয়পত্রের মাধ্যমে এককালীন পরিশোধ এবং কমবয়সী দক্ষ শ্রমিককে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে নতুন মিলে চাকরির সুযোগ করে দেয়ার ব্যবস্থা গ্রহণ করেন প্রধানমন্ত্রী। এমনকি চাকরিবিধি অনুযায়ী প্রাপ্য গ্রাচ্যুইটি, পিএফ তহবিলে জমাকৃত সমুদয় অর্থ ও প্রাপ্য গ্রাচ্যুইটির ওপর নির্ধারিত হারে গোল্ডেন হ্যান্ডশেক সুবিধা দিয়েছেন। এছাড়া কর্মরত ও অবসরপ্রাপ্ত শ্রমিকদের যাবতীয় পাওনা অনধিক ২ (দুই) লাখ টাকার ক্ষেত্রে শতভাগ নগদে এবং ২ (দুই) লাখের অধিক পাওনার ক্ষেত্রে ৫০ শতাংশ নগদে ও ৫০ শতাংশ তিন মাস অন্তর মুনাফাভিত্তিক সঞ্চয়পত্রের মাধ্যমে ২০২০-২১ অর্থবছরের বাজেট হতে প্রচলিত আর্থিক বিধিবিধান অনুসরণ পূর্বক দ্রুত পরিশোধ করা হবে। নগদে পরিশোধ্য পাওনা ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে এবং সঞ্চয়পত্রের মাধ্যমে পরিশোধ্য পাওনা সরাসরি সংশ্লিষ্ট শ্রমিককে নির্ধারিত ব্যাংক/আর্থিক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে পরিশোধ করা; বিজেএমসির অন্যান্য দায়দেনা ২০২১-২২ অর্থবছরে পরিশোধ করা হবে।

খুলনা জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি ও জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আলহাজ শেখ হারুনুর রশীদ বলেন, শ্রমিকবান্ধব প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শ্রমিকদের ভাগ্যোন্নয়নের লক্ষ্যে লোকসানকৃত রাষ্ট্রায়ত্ত জুট মিল নতুন আঙিকে পিপিপির মাধ্যমে পুনরায় চালু করে শ্রমিকদের টাকা এককালীন পরিশোধ এবং দক্ষ শ্রমিককে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে চাকরি দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। দেশ, জাতি ও শ্রমিকের বৃহত্তর স্বার্থে প্রধানমন্ত্রী দেশরত্ন জননেত্রী শেখ হাসিনার সিদ্ধান্তকে সর্বত্র বাস্তবায়ন করতে হবে। এ সিদ্ধান্তের মধ্য দিয়ে প্রধানমন্ত্রীর ভিশন-২০২১ এবং ২০৪১ বাস্তবায়নে আরো এক ধাপ এগিয়ে যাবে।

 

বাগেরহাট-১ আসনের সংসদ সদস্য শেখ হেলাল উদ্দিন বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শ্রমিকদের ভাগ্যোন্নয়নের লক্ষ্যে লোকসানকৃত রাষ্ট্রায়ত্ত জুট মিল নতুন আঙিকে পিপিপির মাধ্যমে পুনরায় চালু করে শ্রমিকদের টাকা এককালীন পরিশোধ এবং দক্ষ শ্রমিককে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে চাকরি দেয়ার সিদ্ধান্ত সময়োপযোগী।

আজকের খুলনা
আজকের খুলনা
খুলনা বিভাগের পাঠকপ্রিয় খবর