• বুধবার   ১২ আগস্ট ২০২০ ||

  • শ্রাবণ ২৮ ১৪২৭

  • || ২২ জ্বিলহজ্জ ১৪৪১

আজকের খুলনা
১৩৪

খুলনায় ধানকাটা শুরু, শ্রমিক সংকটের আশঙ্কা

আজকের খুলনা

প্রকাশিত: ২২ এপ্রিল ২০২০  

খুলনা জেলায় চলতি বছর ৫৩ হাজার হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ হয়েছে। ফলনও ভালো। কিন্তু করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ধানকাটার জন্য প্রয়োজনীয় শ্রমিক পাওয়া নিয়ে সংশয়ে রয়েছেন কৃষকরা।

ধান পাকতে শুরু করায় কৃষকরা নিজেরা এবং কম সংখ্যক শ্রমিক নিয়ে ধান কাটতে শুরু করেছেন। ইতিমধ্যে ডুমুরিয়া ও বটিয়াঘাটাসহ বেশ কয়েকটি উপজেলায় ধানকাটা শুরু হয়েছে। অনেকেই নারী শ্রমিক দিয়েও ধান কাটাচ্ছেন। তবে ধান কাটতে ডুমুরিয়া উপজেলা চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে স্বেচ্ছাসেবক টিম গঠন করা হয়েছে।

ডুমুরিয়ার কৃষক আহমদ আলী বলেন, বোরো ধানকাটা আগামী সপ্তাহে শুরু করতে পারবেন। কিন্তু ধানকাটা শ্রমিকরা করোনা আতঙ্কে রয়েছেন। মাঠে ধান কাটতে নামলে প্রশাসনের লোকজন তাড়া করতে পারেন- এমন ভয়ও তাদের  রয়েছে। সময়মতো শ্রমিক পাওয়া কঠিন হবে বলে তিনি মনে করেন।

খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার বেতাগ্রাম জোনের কৃষি কর্মকর্তা আব্দুস সাত্তার বলেন, গত বছর ধানকাটার সময় শ্রমিকের জন্য একবেলা ৩৫০ টাকা; আর দুই বেলার জন্য ৫০০ টাকা দিতে হয়েছে। এবার পারিশ্রমিক বেশি দিয়েও শ্রমিক পাওয়া দুষ্কর হতে পারে।  সপ্তাহখানেক পর এ অবস্থা সম্পর্কে ভালো ধারণা পাওয়া যাবে।

ইতোমধ্যে পেকে যাওয়া ধান কৃষকরা নিজ উদ্যোগে কাটতে শুরু করেছেন বলে জানান তিনি।

ডুমুরিয়া উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মোসাদ্দেক হোসেন জানান, ডুমুরিয়া উপজেলায় ২১ হাজার ২০৫ হেক্টর জমিতে বোরো ধান চাষ হয়েছে। ফলনও ভালো। ইতিমধ্যে উপজেলার টিপনা, উলা ও গুটুদিয়াসহ বিভিন্ন বিলে ধানকাটা শুরু হয়েছে।

খুলনার দাকোপ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুল ওয়াদুদ বলেন, দাকোপ উপজেলার কৃষকরা সামাজিক দূরত্ব মেনে মাঠে যাচ্ছেন।

খুলনা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক কৃষিবিদ পঙ্কজ কান্তি মজুমদার বলেন, ধান মাঠে ফেলে রাখা যাবে না। করোনার প্রভাবের মধ্যে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে কাটার কাজ করলে প্রশাসন বাধা দেবে না।

এদিকে, ধান কাটায় কৃষককে সহায়তার জন্য ডুমুরিয়া উপজেলা চেয়ারম্যান গাজী এজাজ আহমেদ স্বেচ্ছাসেবক টিম গঠন করেছেন। এ সংক্রান্ত বিষয়ে  মঙ্গলবার ফেসবুকে পোস্ট দিয়েছেন তিনি।

পোস্টে তিনি উল্লেখ করেন, যে সকল বর্গাচাষি অথবা নিজ জমিতে বোরো ধান আবাদকারী কৃষক-কৃষাণী জমিতে ধান পেকে যাওয়া সত্ত্বেও শ্রমিকের অভাবে কেটে ঘরে তুলতে পারছেন না, তাদের সহযোগিতার জন্য তিনি গাজী আব্দুল হাদী ফাউন্ডেশনের সদস্যদের সহযোগিতায় স্বেচ্ছাসেবক টিম গঠন করেছেন। সহযোগিতার নেওয়ার জন্য তার সঙ্গে যোগাযোগ করেতে অনুরোধ করেছেন তিনি।

এজাজ আহমেদ বলেন, উপজেলার কোনো কৃষক ধান কাটতে না পারলে খবর পেলে তার স্বেচ্ছাসেবক টিম ধানকাটার ব্যবস্থা করবে। 

আজকের খুলনা
আজকের খুলনা
খুলনা বিভাগের পাঠকপ্রিয় খবর