আজকের খুলনা
ব্রেকিং:
উত্তরবঙ্গের সাথে সারাদেশের রেল যোগাযোগ স্বাভাবিক হয়েছে ব্রাহ্মনবাড়িয়া ও সিরাজগঞ্জে ট্রেন দূর্ঘটনায় সংসদে প্রধানমন্ত্রীর দু:খ প্রকাশ, পেছনে কোনো দূরভিসন্ধি আছে কি না তা খতিয়ে দেখা হবে প্রতিটি উপজেলায় ১০ জন করে চিকিৎসক নিয়োগ দেয়া হবে : সংসদে স্বাস্থ্যমন্ত্রী ২২ নভেম্বর খুলে দেয়া হচ্ছে কুয়েট এর সকল হল, তবে সভা সমাবেশ মিছিল নিষিদ্ধ ঘোষণা পদোন্নতি পেয়ে ইন্সপেক্টর হলেন ৩৩৭ এসআই রংপুর এক্সপ্রেসে সামান্য আগুন, ক্ষয়-ক্ষতি হয়নি: রেল সচিব ৪৪ বছরে নৌ-দুর্ঘটনায় ৪৭১১ জনের প্রাণহানি : সংসদে তথ্য প্রকাশ গাজীপুরের কাপাসিয়ায় সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ গেল বাবা-মেয়েসহ ৩ জনের

শুক্রবার   ১৫ নভেম্বর ২০১৯   অগ্রাহায়ণ ১ ১৪২৬   ১৭ রবিউল আউয়াল ১৪৪১

আজকের খুলনা
সর্বশেষ:
৬৫০ বিচারকের পদোন্নতির প্যানেল অনুমোদন আয়কর মেলার প্রথমদিনে সারাদেশে আদায় ৩২৩ কোটি টাকা নতুন ডাক্তারদের প্রথম কর্মস্থলে ২ বছর থাকতে হবে : জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী এবার প্রাথমিক সমাপনীতে অংশ নিচ্ছে ২৯ লাখ শিক্ষার্থী আইনি মতামত নিয়ে শিক্ষকদের বেতন বৃদ্ধির প্রজ্ঞাপন : সচিব
৭৬

খুলনায় ঘূর্ণিঝড় বুলবুল মোকাবিলায় জরুরি প্রস্তুতিমূলক সভা

নিজস্ব প্রতিবেদক : প্রকাশিত ৭:৫১ পিএম

প্রকাশিত: ৮ নভেম্বর ২০১৯  

ঘূর্ণিঝড় বুলবুল মোকাবেলায় খুলনায় পানি উন্নয়ন বোর্ড, সড়ক বিভাগ, মৎস্য বিভাগ, প্রাণিসম্পদ বিভাগ, কৃষি বিভাগমহ সকল বিভাগ তাদের অধিক্ষেত্রে সম্পদ রক্ষার সকল প্রস্তুতি ইতোমধ্যে গ্রহণ করেছে। পাশাপাশি কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের ছুটি বাতিল করা হয়েছে। খুলে রাখা হয়েছে খুলনার সব উপজেলার সব বিদ্যালয়। একইভাবে খুলনা সিটি কর্পোরেশনের জরুরি বিভাগের ছুটিও বাতিল করা হয়েছে।

খুলনা সার্কিট হাউসের সম্মেলন কক্ষে ঘূর্ণিঝড় বুলবুল মোকাবিলায় জরুরি প্রস্তুতিমূলক সভায় এ তথ্য জানানো হয়।

আজ শুক্রবার (৮ নভেম্বর) বিকেলে জেলা প্রশাসনের আয়োজনে এ সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ হেলাল হোসেন। তিনি ঘূর্ণিঝড় বুলবুল মোকাবিলায় জেলা প্রশাসনের সার্বিক কর্ম-পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করেন এবং এর প্রস্তুতি নিয়ে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য রাখেন।

জানা যায়, খুলনায় ঘূর্ণিঝড় বুলবুল মোকাবিলায় প্রস্তুত রাখা হয়েছে ৩৪৯টি সাইক্লোন শেল্টার। স্থানীয় মানুষকে সচেতন করতে চারটি উপজেলায় চলছে মাইকিং।

সভায় জেলা প্রশাসক মো. হেলাল হোসেন জানান, ঘূর্ণিঝড় বুলবুল মোকাবিলায় খুলনা জেলা প্রশাসন সদা জাগ্রত ভূমিকায় রয়েছে। দুর্যোগ মোকাবিলায় খুলনায় ৩৪৯টি সাইক্লোন শেল্টার প্রস্তুত রাখা হয়েছে। জেলা প্রশাসকের কার্যালয় ও নয়টি উপজেলায় মোট ১০টি কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে। স্থানীয় মানুষকে সচেতন করার জন্য দাকোপ, কয়রা, পাইকগাছা ও বটিয়াঘাটা উপজেলায় দুপুর থেকে মাইকিং করা হচ্ছে। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত জেলা পর্যায়ের কর্মকর্তাদের ছুটি বাতিল করা হয়েছে। আগামী ১০ থেকে ১২ নভেম্বর সুন্দরবনের দুবলার চরে অনুষ্ঠেয় রাসমেলায় যাওয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। ঘূর্ণিঝড় মোকাবিলায় সাইক্লোন প্রিপেয়ার্ডনেস প্রোগ্রামের (সিপিপি) কর্মীরা প্রস্তুত রয়েছেন।

সভায় খুলনার পুলিশ সুপার এস এম শফিউল্লাহ, জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা, কোস্টগার্ড, পানি উন্নয়ন বোর্ড, খুলনা সিটি করপোরেশন, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স, প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা, কৃষি অফিস, আবহাওয়া অফিস, সড়ক ও জনপথ বিভাগ, বিদ্যুৎ বিভাগ, প্রাণিসম্পদ বিভাগ, মৎস্য বিভাগের কর্মকর্তা, স্কাউটস, রেড ক্রিসেন্ট, বিভিন্ন এনজিও’র প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

এদিকে, সকাল থেকেই খুলনার আকাশ মেঘাচ্ছন্ন রয়েছে। দিনভর গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি হচ্ছে।

মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের হারবার মাস্টার কমান্ডার শেখ ফখর উদ্দিন জানান, মোংলা বন্দরে অবস্থানরত ১৪টি বিদেশি জাহাজে মালামাল বোঝাই ও খালাসের কাজ স্বাভাবিক রয়েছে। তবে, বিপদসংকেত দেখাতে বলা হলে তখন কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়া হবে। তারা সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন ও সার্বিক পরিস্থিতি মনিটর করছেন।  

এদিকে, দানবীয় রূপ নিয়ে ক্রমশ এগিয়ে আসছে ঘূর্ণিঝড় বুলবুল- এমন খবরে খুলনার উপকূলীয় এলাকার মানুষের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। তবে, এখনো কেউ সাইক্লোন শেল্টারে যাওয়া শুরু করেননি।

ঘূর্ণিঝড় বুলবুল খুলনাঞ্চলে আঘাত হানার আশঙ্কা থাকায় খুলনা সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে সব ধরনের সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। শুক্রবার বিকেলে নগর ভবনের জিআইজেড মিলনায়তনে দুর্যোগকালীন অথবা দুর্যোগ পরবর্তী ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলায় প্রস্তুতি গ্রহণের লক্ষ্যে অনুষ্ঠিত জরুরি সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন সিটি মেয়র তালুকদার আব্দুল খালেক।

এছাড়া, সভায় কেসিসি’র জরুরি সেবা কাজে নিয়োজিত বিভাগগুলোর কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ছুটি বাতিল, দুর্যোগ বিষয়ে নগরবাসীকে সচেতন করার জন্য মাইকিং, স্কুল-কলেজের ভবনগুলো আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে প্রস্তুত রাখা, মেডিক্যাল টিম গঠন, অ্যাম্বুলেন্স-ফায়ার সার্ভিসসহ জরুরি সেবায় নিয়োজিত বিভাগগুলো প্রস্তুত রাখা, জরুরি ত্রাণসামগ্রী ও শুকনো খাবার প্রস্তুত রাখার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সিটি মেয়র দুর্যোগকালীন ও দুর্যোগ পরবর্তী ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলায় সর্বাত্মক প্রস্তুতিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নির্দেশ দেন। 

নগর ভবনের দ্বিতীয়তলায় কন্ট্রোল রুম খোলাসহ (কন্ট্রোল রুমের ফোন নম্বর ০৪১-২৮৩২৯৭৭) দুর্যোগকালীন ও দুর্যোগ পরবর্তী সার্বিক সহযোগিতা দেওয়ার জন্য নগরীর ৩১টি ওয়ার্ড কাউন্সিলর কার্যালয় প্রস্তুত রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সভায় দুর্যোগকালীন যেকোনো প্রয়োজনে কন্ট্রোল রুমে যোগাযোগ করার জন্য নগরবাসীর প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।

সভায় উপস্থিত ছিলেন কেসিসি’র দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা স্থায়ী কমিটির সভাপতি কাউন্সিলর শেখ মোসারাফ হোসেন, সদস্য মো. গোলাম মওলা শানু, শেখ এমডি মাহফুজুর রহমান লিটন, কাজী তালাত হোসেন কাউট, সংরক্ষিত আসনের কাউন্সিলর মাহমুদা বেগম, প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (যুগ্ম সচিব) পলাশ কান্তি বালা, প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা প্রকৌশলী মো. আব্দুল আজিজ, বাজেট কাম অ্যাকাউন্টস অফিসার এম এম হাফিজুর রহমান, প্রধান প্রকৌশলী (ভারপ্রাপ্ত) লিয়াকত আলী খান, নির্বাহী প্রকৌশলী মশিউজ্জামান খান, জাহিদ হোসেন শেখ, চিফ প্লানিং অফিসার আবির উল জব্বার, ভেটেরিনারি সার্জন ডা. মো.  রেজাউল করিম, সহকারী স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. শরীফ শাম্মিউল ইসলাম, সহকারী প্রকৌশলী শেখ মোহাম্মদ হোসেন, শেখ মো. মাসুদ করিম, রাজস্ব কর্মকর্তা মো. অহিদুজ্জামান খান, এস্টেট অফিসার নুরুজ্জামান তালুকদার প্রমুখ।

আজকের খুলনা
আজকের খুলনা
এই বিভাগের আরো খবর