• রোববার   ২৯ নভেম্বর ২০২০ ||

  • অগ্রাহায়ণ ১৫ ১৪২৭

  • || ১৩ রবিউস সানি ১৪৪২

আজকের খুলনা

খুলনার পাটকল শ্রমিকরা ‘গোল্ডেন হ্যান্ডশেকের’ অর্থ পাবেন ১৮অক্টোবর

আজকের খুলনা

প্রকাশিত: ১৪ অক্টোবর ২০২০  

খুলনা অঞ্চলের রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকল শ্রমিকদের গোল্ডেন হ্যান্ডশেকের অর্থ আগামী ১৮ অক্টোবর প্রদান শুরু করা হচ্ছে। ওইদিন প্লাটিনাম জুট মিলের শ্রমিকদের মাঝে অর্থ বিতরণ আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হবে। এর মধ্য দিয়ে খুলনা জোনের পাটকলগুলোর শ্রমিকদের গোল্ডেন হ্যান্ডশেকের অর্থ প্রদান শুরু হবে।

শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী বেগম মন্নুজান সুফিয়ান এ কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন। একইদিন কার্পেটিং জুট মিলের শ্রমিকদেরও গোল্ডেন হ্যান্ডশেকের অর্থ প্রদান করা হবে।

বাংলাদেশ পাটকল কর্পোরেশন (বিজেএমসি) এর আঞ্চলিক সমন্বয়কারী মো. গোলাম রব্বানী এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, পর্যায়ক্রমে সকল মিলের শ্রমিকদের পাওনা পরিশোধ করা হবে। উদ্বোধনী দিনে  প্লাটিনাম জুট মিলের ৩০ জন শ্রমিকের সঞ্চয়পত্রের কাগজপত্র, ব্যাংক একাউন্ট নগদ টাকা প্রদানের স্লিপসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রদান করা হবে।

খুলনা বিভাগীয় শ্রম অধিদপ্তরের পরিচালক মো. মিজানুর রহমান জানান, খুলনা অঞ্চলের প্রথম পর্যায়ে ১৮ অক্টোবর প্লাটিনাম ও কার্পেটিং জুট মিলের শ্রমিকদের গোল্ডেন হ্যান্ডশেকের অর্থ প্রদান করা হবে। ওইদিন বেলা ১২টায় প্লাটিনাম জুট মিলের ৩০ জন শ্রমিককে আনুষ্ঠানিকভাবে পাওনা পরিশোধ করা হবে। পর্যায়ক্রমে প্রতিদিনই শ্রমিকদের পাওনা অর্থ প্রদান করা হবে। ইতোমধ্যে প্লাটিনাম জুট মিলের অর্থ ছাড় দিয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়।

তিনি বলেন, শ্রমিকরা যাতে নির্বিঘ্নে এবং হয়রানিমুক্তভাবে অর্থ পায়- সে বিষয়ে শ্রম অধিপ্তরের পক্ষ থেকে একজন প্রতিনিধি থাকবে। প্লাটিনাম এবং কার্পেটিং জুট মিলের পর পর্যায়ক্রমে অন্যান্য মিলের শ্রমিকদেরও পাওনা পরিশোধ করা হবে।

জানা গেছে, পর্যায়ক্রমে প্লাটিনাম জুবলী জুট মিলের অবসরপ্রাপ্ত ও অবসানকৃত মোট ৩ হাজার ৮৩৬ জন স্থায়ী শ্রমিকের পাওনা অর্থ প্রদান করা হবে। এছাড়া বদলি শ্রমিকদেরও মজুরি কমিশনের অর্থ প্রদান করা হবে। 

গত ৫ অক্টোবর বিকালে খুলনা বিভাগীয় শ্রম অফিসের সম্মেলন কক্ষে সরকারি সিদ্ধান্তে সময়িক বন্ধ থাকা খুলনা অঞ্চলের রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকলসমূহের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে আয়োজিত ভার্চুয়াল মতবিনিময় সভায় শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী বেগম মন্নুজান সুফিয়ান বলেছিলেন, রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকলগুলো স্থায়ীভাবে বন্ধ করা হয়নি। মূলত সাময়িক উৎপাদন বন্ধ করা হয়েছে। যত দ্রুত সম্ভব মিলগুলোকে উৎপাদনে ফিরিয়ে আনা হবে।

শ্রম প্রতিমন্ত্রী বলেন, জিটুজি, পিপিপি অথবা লিজিং ব্যবস্থাপনায় অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতি স্থাপন করে পাটকলগুলোকে লাভজনক প্রতিষ্ঠানে পরিণত করা হবে। মিলসমূহ চালু হলে দক্ষ শ্রমিকরা অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সেখানে চাকরি পাবেন। করিম জুটমিলের শ্রমিকদের পাওনা অর্ধেক চেকের মাধ্যমে এবং অর্ধেক সঞ্চয়পত্রের মাধ্যমে দেয়া হয়েছে। অল্প দিনের মধ্যেই খুলনার প্লাটিনাম জুট মিলের শ্রমিকদের পাওনা বুঝিয়ে দেয়া হবে।

জানা গেছে, নোটিশ মেয়াদের অর্থাৎ জুলাই-আগস্টের ৬০ দিনের মজুরি এরই মধ্যে পেয়েছেন শ্রমিকরা। প্রভিডেন্ট ফান্ড (পিএফ), গ্র্যাচুইটি, গোল্ডেন হ্যান্ডশেক সুবিধাসহ সমুদয় পাওনার ৫০ শতাংশ নিজ নিজ ব্যাংক হিসাবে এবং বাকি ৫০ শতাংশ সঞ্চয়পত্র আকারে পরিশোধ করা হবে। এরই মধ্যে শ্রমিকদের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট বিজেএমসির হাতে পৌঁছেছে। লোকসান থেকে বাঁচতে রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকলগুলোর ২৪ হাজার ৮৮৬ স্থায়ী শ্রমিককে গোল্ডেন হ্যান্ডশেকের (স্বেচ্ছা অবসরে) মাধ্যমে অবসরে পাঠানো হচ্ছে বলে গত ২৮ জুন ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে জানান বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী। ১ জুলাই থেকে বিজেএমসির ২৫টি পাটকল বন্ধ ঘোষণা করে সরকার।

 

 
আজকের খুলনা
আজকের খুলনা