• বুধবার   ১২ মে ২০২১ ||

  • বৈশাখ ২৯ ১৪২৮

  • || ৩০ রমজান ১৪৪২

আজকের খুলনা

খুমেক হাসপাতালে খোলা হচ্ছে করোনার দ্বিতীয় ইউনিট

আজকের খুলনা

প্রকাশিত: ২৫ এপ্রিল ২০২১  

সারাদেশের মত খুলনায়ও ধরা পড়ছে রেকর্ড সংখ্যক করোনায় আক্রান্ত রোগী। চলতি মাসেই সর্বোচ্চ করোনায় আক্রান্ত শনাক্তের রেকর্ড সৃষ্টি হয়েছে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পিসিআর ল্যাবে। গত কয়েক মাসের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি রোগী শনাক্ত করা হয়েছে গত ২৩ দিনে। এছাড়াও বেড়েছে মৃতের সংখ্যাও। এদিকে সংক্রমনের উর্ধ্বগতির কথা চিন্তা করে খুমেক হাসপাতালে করোনার ২য় ইউনিট খোলার প্রস্তুতি চলছে বলে জানিয়েছেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। 
গত ফেব্র“য়ারি মাসে খুমেক হাসপাতালের ২টি পিসিআর ল্যাবে মোট ৫ হাজার ১১০টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। এর মধ্যে ১০০টি পজেটিভ রোগী শনাক্ত হয়েছে। পরবর্তী মার্চ মাসে নমুনা পরীক্ষা ও শনাক্তের হার কিছুটা বাড়তে দেখা যায়। ঐ মাসে পরীক্ষা করা করা হয়েছে ৮ হাজার ৯৭২টি নমুনা। এর মধ্যে করোনা শনাক্ত হয়েছে ৩৩৭ জন রোগীর। চলতি মাসের ২৩ তারিখ পর্যন্ত নমুনা পরীক্ষা করা হয় ৬ হাজার ৫৭৭টি। এর মধ্যে করোনায় আক্রান্ত শনাক্ত হয় ১ হাজার ২৫৬ জনের। আক্রান্তদের মধ্যে মহানগরীর বাসিন্দা রয়েছেন ৯৮৫ জন। যা গত কয়েক মাসের তুলনায় দ্বিগুণের থেকেও বেশি। 
গত ১ সপ্তাহে খুলনায় করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা ছিলো ভয়াবহ। চলতি মাসের ১৬ তারিখে খুমেক হাসপাতালের ২টি পিসিআর ল্যাবে খুলনাসহ বিভাগের বিভিন্ন অঞ্চলের ৫৬১টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়। এর মধ্যে নগরীর ৪৪ জনসহ মোট ৫৮ জন করোনা রোগী শনাক্ত করা হয়। ১৭ তারিখে ৫৩৫টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়। এর মধ্যে খুলনায় ৬০ জনসহ মোট ৭৩টি পজেটিভ রোগী শনাক্ত করা হয়। ১৮ তারিখে ২৮২টি নমুনা পরীক্ষা করে ৬১ জন খুলনার বাসিন্দাসহ মোট শনাক্ত করা হয় ৬৮ জন করোনা রোগী। গত ১৯ ও ২১ তারিখে ৬৫৬টি পরীক্ষা করে ১৫০টি নমুনা পজেটিভ আসে। এর মধ্যে ১৩৩ জনই খুলনার বাসিন্দা। ২২ তারিখে ২৮২টি নমুনা পরীক্ষা করে ৩৮ জন করোনা রোগী শনাক্ত করা হয়। গতকাল শুক্রবার খুমেক হাসপাতালের ২টি পিসিআর ল্যাবে ৩৭৫টি নমুনা পরীক্ষা করে করোনা শনাক্ত করা হয়েছে ৮৯ জনের। এর মধ্যে ৬৫ জনই খুলনার বাসিন্দা বলে জানা যায়। 
এদিকে বিভাগীয় শহর খুলনায় রোগীদের জন্য রয়েছে মাত্র একটি করোনা ইউনিট। খুমেক হাসপাতালের ১০০ শয্যা বিশিষ্ট এই করোনা ইউনিটে গত কয়েক মাসে রোগীর উপস্থিতি ছিলো না বললেই চলে। কিন্তু চলতি মাসে খুমেকের করোনা ডেডিকেটেড হাসপাতাল এখন রোগীতে প্রায় কানায় কানায় পূর্ণ। বর্তমানে এই করোনা ইউনিটে ৭৭ জন রোগী চিকিৎসাধীন অবস্থায় রয়েছেন। এখনও ২৩টি শয্যা ফাঁকা রয়েছে বলে জানিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। 
খুমেক হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ও করোনা ডেডিকেটেড হাসপাতালের ফোকাল পারসন ডাঃ সুহাস রঞ্জন হালদার সময়ের খবরকে বলেন, এ হাসপাতালের করোনা ইউনিটে বর্তমানে রোগী ভর্তি করার জন্য শয্যা ফাঁকা রয়েছে। কিন্তু ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে এ হাসপাতালের পুরাতন অর্থপেডিকস বিভাগে ৫০ শয্যা বিশিষ্ট আর একটি ইউনিট চালু করার জন্য কাজ চলছে। এছাড়াও বর্তমান করোনা ইউনিটে পরিপূর্ণ অক্সিজেন সেবাসহ রোগীদের সব ধরনের সেবা প্রদান করা হচ্ছে বলে জানান তিনি। 
খুলনা মেডিকেল কলেজের উপাধ্যক্ষ ও বিএমএ খুলনার সাধারণ সম্পাদক ডাঃ মেহেদি নেওয়াজ বলেন, বর্তমানে খুলনায় করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা অনেক বেশি। আর যারা হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছেন তাদের বেশির ভাগেরই শারীরিক অবস্থা অনেক খারাপ হয়ে পড়ছে। ইতোমধ্যে ডেডিকেটেড করোনা হাসপাতালের ২য় তলায় অতিরিক্ত আরও ১০টি আইসিইউ বেড যুক্ত করা হচ্ছে। এছাড়াও অক্সিজেন ভেন্টিলেটর ছাড়া হাইফ্লো সংযুক্ত আরও ১০টি হাই ডিপেন্ডেন্সি ইউনিট (এইচডিইউ) বেড স্থাপনের কাজ চলছে। করোনার এই উর্ধ্বগতির কথা চিন্তা করে ৫০ শয্যা বিশিষ্ট আরও একটি করোনা ইউনিট চালু করার জন্য কাজ চলমান রয়েছে। তবে এর জন্য কিছুটা লোকবল সংকট রয়েছে। যা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে বলে জানান এই চিকিৎসক নেতা। 
খুমেক হাসপাতালের পরিচালক ডাঃ মোঃ এটিএম মঞ্জুর মোর্শেদ সময়ের খবরকে বলেন, আমরা মনে করছি খুলনায় করোনা রোগীর সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। তাই আরও ৫০ শয্যা বিশিষ্ট একটি ইউনিট চালু করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং এর কাজ অনেক দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে। আমরা আশা করছি ১০-১২ দিনের মধ্যে হাসপাতালে করোনার ২য় ইউনিট চালু করা সম্ভব হবে। এতে শুধুমাত্র নগরবাসীই নয়, পুরো দক্ষিণাঞ্চলের মানুষ উপকৃত হবে বলে জানান হাসাপাতালে শীর্ষ এ কর্মকর্তা।

আজকের খুলনা
আজকের খুলনা