• সোমবার   ১৩ জুলাই ২০২০ ||

  • আষাঢ় ২৯ ১৪২৭

  • || ২২ জ্বিলকদ ১৪৪১

আজকের খুলনা
২০৯

ক্ষমতার মসনদে বসতে সহিংসতার পথে আবারো বিএনপি-জামায়াত

আজকের খুলনা

প্রকাশিত: ২৬ নভেম্বর ২০১৯  

রাজনীতির মাঠে হঠাৎ করে নড়েচড়ে বসেছে বিএনপি। মঙ্গলবার তাদের নেতা কর্মীরা দলীয় চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে হাইকোর্ট এর সামনে শো ডাউন করার চেষ্টা করেছে। তার কয়েকদিন আগে নয়াপল্টনে সমাবেশ দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘এরপর থেকে সমাবেশ করতে হলে বিএনপি আর সরকারের কাছে অনুমতি চাইবে না’। এ দুটি ঘটনার আগে আরেকটি উদ্বেগজনক ঘটনা ঘটেছে। তা হলো অনেকটা প্রকাশ্যেই শিবির এর শীর্ষ নেতারা বিএনপি মহাসচিবের সাথে দেখা করেছেন এবং একান্ত বৈঠক করেছেন, শিবির নেতাদের পরবর্তী কর্মসুচি নিয়ে দিক নির্দেশনা দিয়েছে মির্জা ফখরুল। 

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বিষয়গুলোকে ইতিবাচক দৃষ্টিতে দেখছেন না। প্রথমত, দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন সংগ্রাম করেও সরকারের পতন ঘটাতে ব্যর্থ হয়েছে বিএনপি। বরং আন্দোলনের নামে বিএনপি-জামায়াত জোটের ধংসাত্মক কর্মকান্ডে জনগণ তাদের দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে। এতে লাভবান হয়েছে আওয়ামীলীগ। বিএনপি ও তাদের দোসরদের দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়ে দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের সমর্থন ও আস্থা এসেছে আওয়ামীলীগের উপর। এ অবস্থায় নিজেদের অবস্থান কিছুটা হলেও জানান দিতে পূর্ব পরিকল্পনার অংশ হিসেবে বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির বিষয়টিকে ইস্যু করে মঙ্গলবার হাইকোর্টের সামনে শো ডাউন করার চেষ্টা করে তারা। বিশৃংখলা সৃষ্টি করে সাময়িকভাবে একটি অরাজক অবস্থা তারা তৈরী করতে চেয়েছিল। কিন্তু আইন শৃংখলা বাহিনী তাদের সে অপচেষ্টা রুখে দেয়। 


দ্বিতীয়ত, বিএনপি ভেবেছিল, নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্য পেঁয়াজ, চাল, লবন প্রভৃতিকে কেন্দ্র করে সম্প্রতি ঘটে যাওয়া কিছু অনাকাঙ্খিত ঘটনা জনগণের মাঝে অসন্তোষ সৃষ্টি করেছে। সরকারের বিরুদ্ধে জনগণকে ক্ষেপিয়ে তুলতে এখন এ সুযোগটি বিএনপিকে নিতে হবে। এক্ষেত্রে তারা ব্যর্থ হয়েছে। জনরোষ তৈরী হয়নি। সরকার শক্তভাবে অসাধু ব্যবসায়ী সিন্ডিকেটকে নিয়ন্ত্রন করতে শুরু করেছে। যার সুফল দু এক সপ্তাহের মধ্যে দেশের মানুষ পেতে শুরু করবে বলে আশা করা হচ্ছে। 


তৃতীয়ত, শুদ্ধি অভিযান ও দূর্ণীতি বিরোধী অভিযানে যুবলীগ ও আওয়ামীলীগের কয়েকটি অঙ্গ সংগঠনের কিছু নেতা গ্রেফতার হওয়ার পর বিএনপি ভেবেছিল, এসব দূর্ণীতির দায় সরকারের উপর এসে পড়বে। জনগণ ক্ষিপ্ত হবে। সরকারের পতন হবে। তাই তারা নড়েচড়ে বসে। কিন্তু এক্ষেত্রেও তারা ব্যর্থ হয়। দূর্ণীতি বিরোধী অভিযান সরকারের জনপ্রিয়তা বাড়িয়ে দিয়েছে। একই সাথে সরকার প্রধান শেখ হাসিনা দূর্ণীতির সাথে আপস করেন না তা আরো একবার প্রমান হয়ে গিয়েছে। 

চতুর্থত, ক্ষমতায় যাওয়ার মোহে লন্ডনে পালিয়ে থাকা দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান প্রতিনিয়ত দলীয় নেতা কর্মীদের উস্কানি দিয়ে চলেছেন। সম্প্রতি এ উস্কানি আরো বেড়ে গেছে বলে নাম প্রকাশ না করার শর্তে দলের একাধিক সূত্র জানিয়েছে। বাধ্য হয়েই দলের নেতা কর্মীরা রাজপথে নামার চেষ্টা করছে।
মূলত, এই চারটি ইস্যুকে মাথায় রেখে বিএনপি রাজনীতির মাঠ গরম করতে চেয়েছিল। 

আজকের খুলনা
আজকের খুলনা
রাজনীতি বিভাগের পাঠকপ্রিয় খবর