আজকের খুলনা
ব্রেকিং:
সরকারি চাকরি আইন-২০১৮ এর ৭টি ধারার বৈধতা নিয়ে সরকারকে লিগ্যাল নোটিশ দ্রুততম সময়ের মধ্যে রোহিাঙ্গা ক্যাম্পের চারদিকে কাঁটাতারের বেষ্টনী তৈরির কাজ শুরু হবে : সেনাবাহিনী প্রধান অর্থোপাচার মামলায় সেলিম প্রধান ও তার দুই সহযোগীর ৫ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর ঢাবির ‘খ’ ইউনিটের ফল প্রকাশ, পাস ২৩.৭২ শতাংশ সরকার ছাত্র রাজনীতি বন্ধের পক্ষে নয় : ওবায়দুল কাদের বিশ্ববিদ্যালয়সহ সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ছাত্ররাজনীতি ও র‌্যাগিং বন্ধে রিট

সোমবার   ১৪ অক্টোবর ২০১৯   আশ্বিন ২৯ ১৪২৬   ১৪ সফর ১৪৪১

আজকের খুলনা
সর্বশেষ:
আবরার হত্যা : মোয়াজ ও শামিম বিল্লাকে ৫ দিনের রিমান্ডে জেএসসি পরীক্ষা : ২২ দিন কোচিং সেন্টার বন্ধ রাখার নির্দেশ টাইফুনে লন্ডভন্ড জাপান, নিহত বেড়ে ১৯ কাকরাইলে পিকআপের ধাক্কায় রিকশা আরোহী নারী নিহত চুয়াডাঙ্গায় প্রবাসীর স্ত্রীকে পুড়িয়ে হত্যার চেষ্টা, গ্রেফতার ২
১০৫২৯

জেলা আ’লীগের বর্ধিত সভায়

কেন্দ্রীয় নেতাদের তোপের মুখে এমপি নারায়ন

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২২ মে ২০১৯  

খুলনা জেলা আওয়ামী লীগের বিশেষ বর্ধিত সভায় কেন্দ্রিয় নেতৃবৃন্দ ও সাধারণ নেতা কর্মীদের চরম তোপের মুখে পড়লেন খুলনা-৫ আসনের সংসদ সদস্য ও সাবেক মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী নারায়ণ চন্দ্র চন্দ। ডুমুরিয়া উপজেলা নির্বাচনে কেন্দ্র মনোনীত প্রার্থীর প্রকাশ্য বিরোধিতা করে বক্তব্য দেয়ার সময় বর্ধিত সভায় সাধারণ নেতা কর্মীদের মাঝে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। এ সময় কেন্দ্র থেকে আগত নেতৃবৃন্দ নারায়ন চন্দ্র চন্দকে ভৎর্সনা করে নৌকার প্রার্থীর পক্ষে কাজ করার নির্দেশ প্রদান করেন। নেতৃবৃন্দ হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা যাকে দল থেকে মনোনয়ন দিয়েছেন, তার পক্ষে সবাইকে কাজ করতে হবে, কেউ বিরোধিতা করলে, সে মন্ত্রী হোক আর এমপি হোক- তাকে বিন্দু মাত্র ছাড় দেয়া হবে না। ডুমুরিয়ায় নৌকা মনোনীত প্রার্থীকে বিজয়ী করতেই হবে।    
বর্ধিত সভার উদ্বোধনী বক্তৃতায় কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের খুলনা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক জাতীয় সংসদের হুইপ আবু আল মাহমুদ স্বপন বলেন দেশ অনেক এগিয়েছে, জননেত্রী শেখ হাসিনা তার প্রিয় সংগঠন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগকে শক্তিশালী করার লক্ষ্যে প্রতি তিন বছরে আওয়ামী লীগের কেন্দ্র থেকে তৃণমূলের জেলা মহানগর উপজেলা ইউনিয়ন ওয়ার্ড কমিটি করে থাকেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এত কাজ করেন, তিনি যদি প্রতি তিন বছরে কেন্দ্রীয় সম্মেলন করতে পারেন তাহলে আপনারা কেন প্রতি তিন বছরে আপনাদের ইউনিট গুলোর সম্মেলন করতে পারেন না?  তিনি আরো বলেন, জানতে পারলাম অনেক উপজেলায় অনেক ইউনিয়নের কমিটি নেই। আমি জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতির কাছে জানতে চাই, প্রশ্ন রাখতে চাই, হারুন ভাই, আপনাকে তো নেত্রী খুব শ্রদ্ধা করেন, ভালোবাসেন, সম্প্রতি খুলনা জেলায় নয়টি উপজেলার মধ্যে আটটি উপজেলায় নির্বাচন হয়েছে। তার মধ্যে ২ টি উপজেলায় বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় আ’লীগ প্রার্থীরা নির্বাচিত হয়েছে। আর বাকি ৬ টির মধ্যে চারটি উপজেলায় জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এর প্রিয় প্রতীক জননেত্রী শেখ হাসিনার প্রিয় প্রতীক নৌকা ফুটো করে দেয়া হয়েছে। নৌকা ফুটো করে নৌকা ডুবিয়ে দেয়া হয়েছে। জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি হিসেবে হারুন ভাই এর দায় এড়াতে পারেন না। কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী নেত্রী বলে দিয়েছেন, এই নৌকা প্রতীকের যারা বিরোধিতা করবে তাদের বিরুদ্ধে কঠিন থেকে কঠিনতর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। হারুন ভাই আপনার কাছে প্রশ্ন রাখতে চাই, নেত্রী আপনাকে অনেক ভালো জানেন, আপনি নেত্রীর সামনে এই পরাজিত ফুটো নৌকার কথা বলে দাড়াঁবেন কিভাবে? এই নৌকার পরাজয়ের দায় আপনি এড়াতে পারেন না, কারণ আপনি জেলার সভাপতি। ঠিক একই ভাবে সংশ্লিষ্ট আওয়ামী লীগের বিভিন্ন ইউনিটের দাঁড়াতে পারে না। আমি শুনেছি আরেকটি উপজেলা নির্বাচন বাকি রয়েছে। ডুমুরিয়া উপজেলা। সেই ডুমুরিয়া উপজেলার বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী বঙ্গবন্ধুর প্রিয় প্রতীক নৌকার প্রার্থী এবং জননেত্রী শেখ হাসিনা যাকে ভালোবেসে যার প্রতি আস্থা রেখে নৌকা মনোনয়ন দিয়েছেন জননেত্রী শেখ হাসিনার সেই নৌকাটি ও ফুটো করার জন্য কেউ কেউ পায়তারা শুরু করেছেন। এমপি হন আর যেই হোন কাউকে ছাড় দেয়া হবে না। কেউ যদি  এই নৌকা প্রতীকের বিরোধিতা করে নৌকা ফুটা করে নৌকা ডুবিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেন, তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। ভেবেছেন বারবার বলা সত্ত্বেও কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয় না কেন ? এবার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। সেই ব্যবস্থা এমন হবে যে, যারা ইতোমধ্যে নৌকা পেয়েছেন, কিন্তু পরবর্তীতে নৌকার বিরোধিতা করেছেন, তারা কখনো আর নৌকা পাবেন না। তাই হুঁশিয়ার করে দিতে চাই ডুমুরিয়া উপজেলা নির্বাচনে আওয়ামী লীগের কোনো দায়িত্বশীল পদে থেকে কেউ যদি নৌকা ডুবিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেন আওয়ামী লীগের তার আর কোন জায়গা হবে না। আমি স্পষ্ট করে বলতে চাই সকল বিভেদ ভুলে গিয়ে আওয়ামী লীগকে ঐক্যবদ্ধ করার লক্ষ্যে আওয়ামী লীগকে শক্তিশালী করার লক্ষ্যে একমত হয়ে কাজ করেন, তা না হলে কেউ ক্ষমা পাবেন না। 
জেলা আওয়ামীলীগের বর্ধিত সভায় উপস্থিত কয়েকজন নেতা কর্মী জানান, নারায়ণ চন্দ্র চন্দ তার বক্তব্যে বলেন, মনোনয়ন বোর্ড যদি মনোনয়ন দিতে ভুল করেন তখন তো আমরা বসে থাকতে পারি না’। এমপি নারায়ণ চন্দ্র চন্দ সরাসরি উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী মোস্তফা স্যারের বিরুদ্ধে মিথ্যা অপ প্রচার করার চেষ্টা করেন এবং তিনি কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের মনোনয়ন বোর্ডকে কটাক্ষ করে কথা বললে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের নির্বাহী কমিটির সদস্য এসএম কামাল তাকে ধমক দেন ও থামিয়ে দিয়ে বলেন, ‘উপজেলা নির্বাচনে সকল প্রার্থীকে মনোনয়ন দিয়েছে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের মনোনয়ন বোর্ড। সেই মনোনয়ন বোর্ডের সভাপতি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা এই উপজেলা নির্বাচনে যদি বিভিন্ন প্রার্থীকে নৌকা প্রতীক দিয়ে ভুল করে থাকেন, তাহলে কি আপনি নারায়ণ চন্দ্র চন্দ আপনাকে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ মনোনয়ন দিয়ে এমপি বানিয়েছেন, জননেত্রী শেখ হাসিনা আপনাকে মন্ত্রী বানিয়েছেন, তাহলে কি আপনাকে মন্ত্রী বানানো এবং এমপি বানানো জননেত্রী শেখ হাসিনার ভুল ছিল? হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে তিনি বলেন, ‘সংযত হয়ে কথা বললে ভাল হয়, কারণ এটা আওয়ামী লীগের বর্ধিত সভা। মনোনয়ন বোর্ড ভুল করল না সঠিক করল এই বিচার করার ক্ষমতা আপনার নাই। আপনি ভুলে গেছেন আপনি একটা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মাত্র। ভবিষ্যতে মন্তব্য করার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকবেন। 
উপস্থিত নেতা কর্মীরা আরো জানান, জননেতা শেখ হেলাল তাঁর বক্তৃতায় বলেন, দলীয় সভানেত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির নেতৃবৃন্দ আজকে বর্ধিত সভায় যে বক্তব্য দিয়েছেন, তাদের সে নির্দেশনা অনুযায়ী সবাই কাজ করবেন। এ সময় সবাই হাত তুলে নিজেদের সমর্থন জানান। বর্ধিত সভার খুলনা জেলা, উপজেলা ইউনিয়নের নেতৃবৃন্দ বলেন, আওয়ামী লীগকে ভেঙে টুকরো করতে দেয়া হবে না, জননেত্রী শেখ হাসিনার হাতকে শক্তিশালী করতে গেলে তার দেয়া নৌকা প্রতীকের পক্ষে সবাই ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করতে হবে। বর্ধিত সভায় উপস্থিত ছিলেন ডুমুরিয়া উপজেলা আ’লীগের সাধারণ সম্পাদক অধ্যক্ষ নুরুদ্দিন আল মাসুদ। তিনি বলেন, স্বল্প সময়ে ডুমুরিয়া উপজেলা আওয়ামীলীগের কমিটি গঠন করার কথা থাকলেও ইচ্ছে করেই উপজেলা সভাপতি নারায়ন চন্দ্র চন্দ এমপি গত ৪ বছরেও কমিটি দিতে পারেননি। শুধু উপজেলা আওয়ামীলীগ নয়, এর অঙ্গ সংগঠনগুলোরও কমিটি গঠন করাতে পারেননি তিনি। নিজ স্বার্থে তিনি কমিটি করেননি। এতে দলের ক্ষতি হয়েছে। দলের ভিতরে থেকে তিনি কেন্দ্রের নির্দেশ অমান্য করে নৌকার প্রতিদ্বন্দ্বি প্রার্থীকে প্রকাশ্যে সমর্থন দিচ্ছেন, তার হয়ে কাজ করছেন। এটি বিদ্রোহের সামিল। এর আগেও তিনি নিজস্বার্থে দল বিরোধী অনেক কাজ করেছেন। তার বিরুদ্ধে অসংখ্য অভিযোগ রয়েছে। দলের সাধারণ কর্মীরা মনে করেন, খুলনায় কয়েকটি উপজেলায় আওয়ামীলীগের চেয়ারম্যান পদে পরাজয়ের নেপথ্যে যে কয়েকজন দলের মধ্যে ঘাপটি মেরে থাকা নেতা রয়েছেন, তাদের সাথে তার পূর্ণ যোগসাজশ রয়েছে। এখন তিনি প্রকাশ্যে দলীয় সভানেত্রী মনোনীত প্রার্থীর বিরোধিতা করছেন। নৌকার প্রার্থীকে হারাতে মরিয়া হয়ে মাঠে নেমেছেন। সাধারণ নেতা কর্মীরা এটি মেনে নেবে না। 
১৯ মে খুলনা মহানগরীর ইউনাইটেড ক্লাবে জেলা আওয়ামীলীগের বিশেষ বর্ধিত সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় উপস্থিত স্থানীয় পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ দু হাত উচুঁ করে কেন্দ্রিয় নেতৃবৃন্দের সিদ্ধান্তের প্রতি সমর্থন জানান এবং সাংগঠনিক ঐক্য বজায় রেখে ডুমুরিয়ায় নৌকা প্রতিকের প্রার্থীকে বিজয়ী করার প্রতিশ্রুতি দেন। 
 

আজকের খুলনা
আজকের খুলনা
এই বিভাগের আরো খবর