• বৃহস্পতিবার   ০৯ জুলাই ২০২০ ||

  • আষাঢ় ২৫ ১৪২৭

  • || ১৮ জ্বিলকদ ১৪৪১

আজকের খুলনা
৭৮

করোনা জয় করে বাড়ি ফিরলেন খুলনার ২ যোদ্ধা

আজকের খুলনা

প্রকাশিত: ৯ মে ২০২০  

চিকিৎসার পর খুলনার করোনা ডেডিকেটেড হাসপাতাল থেকে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন দুইজন। শনিবার (৯ মে) দুপুর ১টার দিকে করোনা চিকিৎসা সংশ্লিষ্ট সিনিয়র চিকিৎসকরা ফুল, ফল ও স্বাস্থ্যসেবা গাইড লাইন দিয়ে হাততালি দিয়ে বিদায় দেওয়া হয় তাদের।

খুলনা মেডিক্যাল কলেজ (খুমেক) হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, হাসপাতালের সিনিয়র স্টাফ নার্স শীলা রানী দাস গত ২৮  এপ্রিল খুলনার করোনা ডেডিকেটেড হাসপাতালে নার্সিং সুপারভাইজার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। সেখানে করোনা আক্রান্ত খুমেকের তিনজন শিক্ষককে সেবা করার সময় তিনিও করোনা আক্রান্ত হন। দায়িত্ব পালন শেষে সিএসএস আভা সেন্টারে প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিনে থাকার সময় উপসর্গ দেখা দিলে গত ২৮ এপ্রিল  শীলা দাসের করোনা পরীক্ষা করা হয় এবং পজেটিভ আসে। এর পর থেকে  করোনা ডেডিকেটেড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন তিনি।

এদিকে নগরের দৌলতপুর মহেশ্বরপাশা কালিবাড়ি এলাকার রিকশাচালক বিষ্ণু হাজারা বেশ কয়েকদিন ধরে জ্বর শ্বাসকষ্টে ভুগলে খুমেক হাসপাতালের ফ্লু কর্নারে চিকিৎসা নিতে এলে উপসর্গ দেখে তার করোনা পরীক্ষা করান দায়িত্বরত চিকিৎসকরা। এসময় পরদিন তারও পজেটিভ েএলে তাকেও নুরনগরে করোনা হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। 

গত ৭ ও ৮ মে পরপর দুইদিন করোনা পরীক্ষার ফল নেগেটিভ আসায় তাদের করোনা মুক্ত সনদ দিয়ে হাসপাতাল থেকে বিদায় দেওয়া হয়। বিদায়কালে তাদের ফুল, ফল ও চিকিৎসা গাইড লাইনের পাশাপাশি হাততালি দিয়ে অভিনন্দন জানানো হয়।

করোনা হাসপাতাল কমিটির আহ্বায়ক ডা. মো. ফরিদ উদ্দিন আহমেদ বলেন, করোনা যুদ্ধে বিজয়ী এ দুই যোদ্ধাকে ফুল, ফল ও হাততালি দিয়ে তাদের অভিনন্দন জানানো হয়। তাদের পরপর দুইবার করোনা টেস্টে নেগেটিভ আসার ফলাফল সিট ও হাসপাতালের চিকিৎসা ব্যবস্থাসহ ছাড়পত্র দেয়া হয়। এখন থেকে তাদের ১৪ দিনের হোম কোয়ারেন্টিনে থাকতে হবে। 

করোনা থেকে মুক্ত হয়ে শীলা রানী দাস বলেন, হাসপাতালে করোনা রোগীদের সেবা করতে এসে আক্রান্ত হয়েছিলাম। কিন্তু চিকিৎসকের গাইড লাইন মেনে চলেছি। ইশ্বরের কৃপায় সুস্থ হয়েছি। আশাকরি খুব শিগগিরই স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আবারও করোনা যুদ্ধে শামিল হতে পারবো। সবাইকে প্রয়োজন না হলে বাসায় থাকার পরামর্শ দেন তিনি। 

এসময় করোনা চিকিৎসা ব্যবস্থাপনা কমিটির সার্বিক সমন্বয়কারী ডা. মেহেদী নেওয়াজ, সদস্য সচিব ডা. খসরুল আলম মল্লিক, খুমেক হাসপাতালের পরিচালক ডা. মুন্সি রেজা সেকেন্দার, মানসিক স্বাস্থ্য বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ডা. ফরিদ আহমেদ, শিশু সার্জারি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ডা. জুলকার নাইম, খুমেক হাসপাতালের আরএমও ডা. মিজানুর রহমান, ফ্লু কর্নারের মুখপাত্র ডা. শৈলেন্দ্রনাথ বিশ্বাস উপস্থিত ছিলেন। 

এর আগে খুলনায় করোনা আক্রান্ত একজন সুস্থ হয়েছিলেন । যেহেতু তিনি বাড়িতে আইসোলেশনে থেকে চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়েছেন তাই তাকে আর আনুষ্ঠানিকভাবে বিদায় জানানো হয়নি। দুইজনকে প্রথম আনুষ্ঠানিক বিদায় দেয়া হয়।

আজকের খুলনা
আজকের খুলনা
খুলনা বিভাগের পাঠকপ্রিয় খবর