• সোমবার   ০৩ আগস্ট ২০২০ ||

  • শ্রাবণ ১৯ ১৪২৭

  • || ১৩ জ্বিলহজ্জ ১৪৪১

আজকের খুলনা
১৯

করোনাকালে অর্থনীতির চাকা সচল রাখছে আইসিটি খাত

আজকের খুলনা

প্রকাশিত: ৪ জুলাই ২০২০  

করোনা বিপর্যয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’ এর সুফল হাতেনাতে পাচ্ছে দেশের জনগণ। এই দুর্যোগে যখন তছনছ স্বাস্থ্য খাত, স্থবির হয়ে পড়েছে ব্যবসা-বাণিজ্য, ভেঙে পড়েছে স্বাভাবিক বাজার ব্যবস্থা, শিক্ষা ও অর্থনৈতিক কর্মকান্ড, তখন ঢাল হয়ে সামনে দাঁড়িয়েছে তথ্য-প্রযুক্তি খাত। মহামারী সামাল দিয়ে অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছে আইসিটি বিভাগ। ডিজিটাল প্রযুক্তির সহায়তায় চালু রাখা সম্ভব হয়েছে জরুরি সেবাসহ বিভিন্ন দাফতরিক ও অর্থনৈতিক কর্মকান্ড। স্বাভাবিক রয়েছে বাজার ব্যবস্থা। অনলাইনেই চলছে শিক্ষার্থীদের লেখাপড়া। ভার্চুয়াল আদালতে চলছে বিচার কার্যক্রম। স্বাস্থ্যসেবা থেকে জরুরি খাদ্য সরবরাহ- সবই মিলছে এখন ঘরে বসে।

এদিকে করোনা পরিস্থিতিতে সীমিত সংখ্যক জনবল দিয়ে সরকারি অফিস চললেও প্রশাসনযন্ত্রকে স্বাভাবিক রাখতে সব কর্মকর্তা-কর্মচারীকে কাজে লাগানো হচ্ছে ডিজিটাল প্লাটফর্মে। ই-নথির মাধ্যমে ঘরে বসে কাজ করছেন অন্যরা। জুম, গুগল মিট, মেসেঞ্জার রুমের মতো অনলাইন প্লাটফর্মে হচ্ছে সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন বৈঠক ও সিদ্ধান্ত। এমনকি অর্থমন্ত্রী বাজেট পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনও করেন অনলাইনে। নিজ নিজ অবস্থান থেকে সেই সংবাদ সম্মেলনে অংশ নেন একাধিক মন্ত্রী, সাংবাদিক ও বিভিন্ন দফতরের কর্মকর্তারা। করোনা মহামারী নিয়ে স্বাস্থ্য অধিদফতর  নিয়মিত ব্রিফিং করছে অনলাইনে। ই-নথির মাধ্যমে স্ব স্ব স্থানে অবস্থান করেই ল্যাপটপ বা মোবাইল ব্যবহার করে প্রাতিষ্ঠানিক জরুরি কাজ করছেন কোটি মানুষ। ফলে কর্মক্ষেত্র আর অফিসের ধরাবাঁধা সময়ে আটকে নেই। ঘরে বসেই সব ধরনের কেনাকাটা হচ্ছে ভার্চুয়াল দোকান থেকে, যে দোকান খোলা থাকছে ২৪ ঘণ্টা। শুধু বাণিজ্যিক ওয়েব পোর্টাল নয়, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করেও নিজের কোনো দোকান ছাড়াই অসংখ্য উদ্যোক্তা, এমনকি কৃষক সরাসরি নিজের পণ্য বিক্রি করছেন। প্রয়োজনে ভিডিও কলের মাধ্যমে ক্রেতার সামনে তুলে ধরছেন পণ্য। এতে করোনা ঝুঁকি মোকাবিলা করে মানুষের নিত্যদিনের প্রয়োজন মেটানোর পাশাপাশি অর্থনীতির চাকা যেমন সচল রাখা সম্ভব হচ্ছে, সেই সঙ্গে বেঁচে যাচ্ছে মানুষের গুরুত্বপূর্ণ সময় ও যাতায়াত খরচ। গত ১১ মে থেকে ২৫ জুন পর্যন্ত ৩০ কার্যদিবসে সারা দেশে অধস্তন আদালতে ভার্চুয়াল শুনানিতে ৮৪ হাজার ৬৫৭টি জামিন-দরখাস্ত নিষ্পত্তি এবং ৪৪ হাজার ৮০২ জন আসামির জামিন মঞ্জুর হয়েছে। জামিন প্রাপ্তদের মধ্যে রয়েছে ৫৭১টি শিশুও। এ ব্যাপারে তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি (আইসিটি) প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে এবং প্রধানমন্ত্রীর সুযোগ্য সন্তান ও আইসিটি উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয় ভাইয়ের সার্বক্ষণিক পরামর্শে গত ১১ বছরে গড়ে ওঠা তথ্য-প্রযুক্তি অবকাঠামোর কারণেই আজ করোনা দুর্যোগের মধ্যে সবকিছু স্বাভাবিক রাখা সম্ভব হয়েছে। আমাদের সৌভাগ্য জয় ভাইয়ের মতো একজন বিচক্ষণ মানুষকে সঙ্গে পেয়েছি। ১১ বছরের কষ্টসাধ্য যাত্রা আজ সার্থক। তথ্য-প্রযুক্তির ওপর ভর করে ফের চাঙ্গা হচ্ছে করোনায় বিপর্যস্ত অর্থনীতি। কর্মসংস্থান ও জীবনযাত্রা স্বাভাবিক রাখতে অবদান রাখছে তথ্য-প্রযুক্তি। দীর্ঘদিন সাধারণ ছুটির পর সরকারি বিভিন্ন দফতরে অনেক কাজ জমা পড়ে গেছে। বাড়িতে অবস্থান করেই ই-নথির মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ সেসব দাফতরিক কাজ সম্পন্ন করতে পারছেন সরকারি কর্মকর্তারা। নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের জরুরি মিটিং হচ্ছে অনলাইন প্লাটফরমে। ঘরে বসে দেওয়া যাচ্ছে গ্যাস-বিদ্যুৎসহ বিভিন্ন ইউটিলিটি বিল। করোনার কারণে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকলেও অনলাইন প্লাটফরমে পড়াশোনা চালিয়ে যাচ্ছেন সাড়ে চার কোটি শিক্ষার্থী। এই বিপর্যয়ের মধ্যেও ই-কমার্সে কর্মসংস্থান হয়েছে লাখো তরুণ-তরুণীর। ন্যায্যমূল্যে কৃষি পণ্যের বাজারজাতকরণেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে তথ্য-প্রযুক্তি। কৃষক ঘরে বসে কৃষিপণ্যের বাজার যাচাই ও পণ্য বিক্রি করতে পারছে। ফলে ডিজিটাল বাংলাদেশের সুফল পৌঁছে যাচ্ছে প্রান্তিক কৃষক পর্যন্ত। আজ সাড়ে ছয় লাখের বেশি ফ্রিল্যান্সার আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে নিজের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করে প্রায় ৯০০ কোটি টাকার মতো বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করছে। এই করোনাকালেও কয়েক লাখ তরুণ-তরুণী শুধু ইউটিউব ভিডিও তৈরি করে রোজগার করছে। গত চার বছরে ডিজিটাল অর্থনীতিতে চমকপ্রদ অগ্রগতি অর্জন করায় হুয়াওয়ের ‘গ্লোবাল কানেক্টিভিটি ইনডেক্স ২০১৯’-এর ‘টপ মুভার’ তালিকায় জায়গা করে নিয়েছে বাংলাদেশ। আজ মানুষের হাতে হাতে মোবাইল। ১০ কোটি ১১ লাখ ৮৬ হাজার মানুষ ইন্টারনেট ব্যবহার করছে। মোবাইলে আর্থিক সেবা, রাইড শেয়ারিং, ই-কমার্স, বাস-ট্রেন-বিমানের টিকিট ছাড়াও বিভিন্ন সরকারি সেবা মিলছে। জমির ই-পর্চা, মিউটেশন, পাসপোর্ট ফরম পূরণ, ভিসা আবেদন, পুলিশ ক্লিয়ারেন্স, ই-চালান, পেনশনভাতাসহ নানা সেবা মিলছে অনলাইনে। আগামী বছরেই পঞ্চম প্রজন্মের মোবাইল সেবা (ফাইভজি) চালুর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। ই-টেন্ডার, ই-নথির কারণে দাফতরিক কর্মকান্ডে গতি ও স্বচ্ছতা এসেছে। করোনা আতঙ্কের মধ্যে ভার্চুয়াল আদালত চালু করে বিচারিক কার্যক্রম চালু করতে পেরেছি। সজীব ওয়াজেদ জয় ভাইয়ের সার্বক্ষণিক পরামর্শে তথ্য-প্রযুক্তির যুগোপযোগী বিকাশের কারণেই আজ এটা সম্ভব হয়েছে।

তিনি বলেন, মানুষের ভোগান্তি কমাতে ভূমি ব্যবস্থা পুরোপুরি ডিজিটালাইজড করা হচ্ছে। মানুষ এখন সহজে ঘরে বসে অনলাইনে আবেদন করে নামজারি করতে পারছেন। গত পাঁচ বছরে এই খাতে ব্যাপক পরিবর্তন আনা হয়েছে যার স্বীকৃতি হিসেবে ভূমি মন্ত্রণালয় জাতিসংঘের সর্বোচ্চ মর্যাদা ‘ইউনাইটেড ন্যাশনস পাবলিক সার্ভিস অ্যাওয়ার্ড-২০২০’ অর্জন করেছে। ভূমি ব্যবস্থায় সংস্কার ছিল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অন্যতম একটা লক্ষ্য। এখন আমরা নজর দিচ্ছি স্বাস্থ্য খাতে। জয় ভাইয়ের পরামর্শে ৫৬টি মন্ত্রণালয়ের ২ হাজার ৮০০ সেবা আমরা ডিজিটাল প্লাটফর্মে নিয়ে আসতে যাচ্ছি। ইতিমধ্যে ৬০০ সেবা অনলাইনে চলে এসেছে। ২০২১ সালের মধ্যে আরও ২ হাজার ২০০ সেবা মানুষ ঘরে বসে গ্রহণ করতে পারবে।

 

জুনাইদ আহমেদ পলক বলেন, ২০০৮ সালের নির্বাচনের আগে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন। তার সেদিনের দূরদর্শী চিন্তার ফল আজ দেশের মানুষ পাচ্ছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ডিজিটাল বাংলাদেশ ভিশনে অন্যতম অনুপ্রেরণাদাতা তার সুযোগ্য সন্তান সজীব ওয়াজেদ জয়। ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার সব রোডম্যাপে জয় ভাই আমাদের নেতৃত্ব দিয়ে যাচ্ছেন। প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে তথ্য-প্রযুক্তি সেবার আওতায় আনতে সারা দেশে ডিজিটাল সেন্টার স্থাপনের চিন্তাটা তারই। আজ প্রতিটি ইউনিয়নে উচ্চগতির ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট পৌঁছে গেছে। পাঁচ হাজার ৬০০ ডিজিটাল সেন্টার থেকে ৬০০ ধরনের সেবা পাচ্ছে প্রান্তিক জনগোষ্ঠী। জরুরি সেবা ‘৯৯৯’ চালু করাও ছিল উনার সিদ্ধান্ত। আজ মানুষ বিপদে-আপদে এখান থেকে সাহায্য পাচ্ছে। এরপর সরকারি তথ্য সেবা দিতে চালু করেন ‘৩৩৩’ হেল্পলাইন। করোনার শুরুতে জয় ভাইয়ের পরামর্শে আমরা করোনাবিষয়ক তথ্য সেবা, টেলিমেডিসিন সেবা, সুবিধাবঞ্চিতদের জন্য জরুরি খাদ্য সহায়তা, সেলফ করোনা টেস্টিংসহ অনেক নতুন সেবা যুক্ত করি হেল্পলাইন ৩৩৩ নম্বরে। এই নম্বরে ফোন করে শিক্ষার্থীরাও বিভিন্ন বিষয়ে শিক্ষকের পরামর্শ নিতে পারবে। সবকিছু ডিজিটাল প্লাটফর্মে নিয়ে আসাই আমাদের লক্ষ্য।

তিনি বলেন, করোনার এই তিন মাস ডিজিটাল বাংলাদেশ গঠনে অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করবে। দেশে প্রথম করোনা রোগী শনাক্তের পরপরই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দিক নির্দেশনা এবং আইসিটি উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়ের পরামর্শে প্রযুক্তি ব্যবহার করে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি, খাদ্য সরবরাহ সবকিছু স্বাভাবিক রাখার উদ্যোগ নেই। অবকাঠামো আগেই প্রস্তুত থাকায় সহজে পরিস্থিতি সামাল দিতে পেরেছি। লকডাউনের সময় পূর্ব রাজাবাজারের ৫০ হাজার মানুষের সব ধরনের চাহিদা অনলাইনের মাধ্যমে পূরণ করা সম্ভব হয়েছে। অর্থাৎ, এটা সারা দেশেই সম্ভব। সজীব ওয়াজেদ জয় ভাইয়ের পরামর্শে আমরা দেশকে ক্যাশলেস ট্রানজেকশনে নিয়ে যেতে কাজ করছি। এটা করতে পারলে আর্থিক লেনদেন যেমন দ্রুত হবে, তেমনি দুর্নীতি বন্ধ হবে। নগদ টাকায় কোনো লেনদেন হবে না। এতে প্রতিটা মানুষের আয়-ব্যয়ের তথ্য আমাদের ডাটাবেজে থাকবে। ১০ বছর আগে কেউ একটা কম্পিউটার কিনলেও সেটার তথ্য সরকারের কাছে থাকবে। আজ প্রধানমন্ত্রীর সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর আওতায় এক কোটি পরিবার সহায়তা পাচ্ছে। সবাইকে অনলাইনে নিয়ে আসতে চাই। করোনার সময় প্রধানমন্ত্রী ৫০ লাখ পরিবারকে নগদ অর্থ সহায়তা দিয়েছেন। এসব অর্থ মোবাইলের মাধ্যমে ডিজিটাল পেমেন্ট করা হয়েছে। ফলে একই ব্যক্তির ফোন নম্বর একাধিকবার দিলে আপনা-আপনি সেই নম্বরে লেনদেন বন্ধ হয়ে গেছে। ক্যাশলেস লেনদেন সহজ করতে ইন্টারঅপারেবল ডিজিটাল ট্রানজেকশন প্লাটফর্ম (আইডিটিপি) চালু করা হচ্ছে। এই প্লাটফর্মের মাধ্যমে যে কেউ যে কোনো ধরনের অ্যাকাউন্ট থেকে আর্থিক লেনদেন করতে পারবে। বিকাশ থেকে রকেটে, রকেট থেকে নগদ অ্যাকাউন্টে, এক ব্যাংকের অ্যাকাউন্ট থেকে অন্য ব্যাংকের অ্যাকাউন্টে সহজে আর্থিক লেনদেন করতে পারবে। এর মাধ্যমে অর্থ লেনদেন, স্থানান্তর, ই-কমার্স, এম-কমার্স, বিল পেমেন্ট, মার্চেন্ট পেমেন্ট, রেমিট্যান্স আদান-প্রদান, মেশিন-টু- মেশিন পেমেন্ট ইত্যাদি করা যাবে। আর এই লেনদেনের তথ্য সরকারের ডাটাবেজে থাকবে। ফলে সব লেনদেনে স্বচ্ছতা চলে আসবে। এতে ক্রেডিট রেটিং সহজ হবে। এমনকি সরকারি সব যানবাহন ও কেনাকাটার তথ্য অনলাইন ডাটাবেজে আনার প্রক্রিয়া চলছে। এতে কোন জিনিসটি কখন কত টাকায় কেনা হয়েছে, কবে মেরামত করা হয়েছে তার তথ্য থাকবে। এতে সরকারি কেনাকাটায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত হবে। এ ছাড়া ২০১৮ সালে জয় ভাইয়ের হাত ধরে শুরু হয় ‘পরিচয়’ (https://porichoy.gov.bd/) প্লাটফর্ম। এতে যে কোনো ব্যক্তির পরিচয় নিশ্চিত হওয়া সহজ হয়ে গেছে। আগে যেখানে একজন গ্রাহকের কেওয়াইসি ফরম পূরণের মাধ্যমে তার পরিচয় নিশ্চিত করতে কোনো ব্যাংক বা প্রতিষ্ঠানের কয়েক দিন লেগে যেত, এখন লাগে এক মিনিট। কোনো গ্রাহকের জমা দেওয়া জাতীয় পরিচয়পত্র আসল নাকি নকল তা এক ক্লিকে যাচাই করা যাচ্ছে।

আইসিটি প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমাদের ইন্টারনেট অবকাঠামো ও ই-কমার্স প্লাটফরম প্রস্তুত ছিল বলে করোনা পরিস্থিতিতে ই-কমার্সের মাধ্যমে বাজার ব্যবস্থা স্বাভাবিক রাখা সহজ হয়েছে। নিরাপদ দূরত্ব বজায় রেখে বিক্রেতারা ঘরে গিয়ে পণ্য পৌঁছে দিয়েছে। যে পরিবর্তনটা ৫-১০ বছর পরে হতো, সেটা গত তিন মাসে হয়ে গেছে। প্রচুর মানুষ ই-কমার্সে ঢুকে গেছে। অনলাইনে বেচাকেনা বেড়েছে ৫০ শতাংশ। বর্তমানে ১৩ লাখ মুদি দোকান রয়েছে। তারাও অনলাইন প্লাটফরমে চলে আসছে। মানুষ এখন অনেক ব্যস্ত হয়ে পড়ছে। সেক্ষেত্রে ই-কমার্স মানুষের স্বস্তির জায়গা হয়েছে। এ ছাড়া ঘরে ঘরে উদ্যোক্তা তৈরি হচ্ছে। একজন গৃহিণীও তার হাতে তৈরি কোনো জিনিস দোকান ছাড়াই বিক্রির সুযোগ পাচ্ছেন। এই তিন মাসে উইম্যান ই-কমার্সে বিস্ময়কর অগ্রগতি হয়েছে। অসংখ্য নারী অনলাইনে ব্যবসা শুরু করেছেন। এই প্লাটফর্মে তিন লাখ উদ্যোক্তা কাজ করছে। এটা নারীর ক্ষমতায়ন ও দারিদ্র্যবিমোচনে বড় অবদান রাখছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ইচ্ছা প্রতিটা মানুষ যার যার জায়গা থেকে কাজ করে নিজেকে ও দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাবে। আমাদের সঙ্গে থেকে প্রধানমন্ত্রীর সেই ইচ্ছা বাস্তবায়নের ক্ষেত্র প্রস্তুত করছেন জয় ভাই। করোনার মধ্যে আমরা ৪০ হাজার তরুণ-তরুণীকে দক্ষ হিসেবে গড়ে তুলতে অনলাইনে প্রশিক্ষণ দেওয়া শুরু করেছি। অনলাইন প্লাটফর্মে হওয়ায় কেউ ক্লাস না করতে পারলেও সেই তথ্য আমাদের ডাটাবেজে থাকছে। তবে ঘরে বসে প্রশিক্ষণ নেওয়ার সুযোগ হওয়ায় অধিকাংশ শিক্ষার্থীই ক্লাসে অংশ নিচ্ছেন। এ ছাড়া অনলাইনে ভাষা শিক্ষার ব্যবস্থা করেছি। আমাদের লক্ষ্য, কেউ যেন ঘরে শুধু শুধু বসে না থাকে। দেশ ডিজিটাল হলেই অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি আসবে। সবকিছু দ্রুত ও স্বচ্ছ হবে।

তিনি বলেন, আগামী ২০২৫ সালের মধ্যে ই-কমার্সে ৫ লাখ এবং সফটওয়্যার ও হার্ডওয়ারে আরও ১০ লাখ মানুষের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হবে। চলতি বছরের মধ্যেই গ্রামের ১০ কোটি মানুষ ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেটের আওতায় চলে আসবে। সব মিলে প্রযুক্তিকে কেন্দ্র করে কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে অন্তত দুই কোটি মানুষের। এ ছাড়া ২০২১ সালের মধ্যে আইসিটি পণ্য ও সেবা রপ্তানি করে পাঁচ বিলিয়ন ডলার আয়ের লক্ষ্য রয়েছে। ই-কমার্সের মূল শর্ত সহজ অনলাইন পেমেন্ট, ইন্টারনেট সুবিধা, গতিশীল সরবরাহ ব্যবস্থা। আমরা এগুলো নিয়ে কাজ করছি। কেনাকাটা ও লেনদেন সহজ করতে সরকার ‘একশপ’ ও ‘একপে’ প্লাটফরম তৈরি করেছি। ‘একশপ’ এর মাধ্যমে বিভিন্ন ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানকে একটা প্লাটফরমে নিয়ে আসা হচ্ছে।

 

আজকের খুলনা
আজকের খুলনা
জাতীয় বিভাগের পাঠকপ্রিয় খবর