• শুক্রবার   ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২০ ||

  • ফাল্গুন ১৫ ১৪২৬

  • || ০৪ রজব ১৪৪১

আজকের খুলনা
সর্বশেষ:
চট্টগ্রামে জাল ব্যাংক স্লিপ দিয়ে পাসপোর্ট আবেদন, আটক ১ টেকনাফে মালয়েশিয়াগামী ৬ রোহিঙ্গা আটক সৌদিতে সড়ক দুর্ঘটনায় বাংলাদেশি যুবকের মৃত্যু অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ৮৬ রানে হারলো বংলাদেশের নারীরা খালেদা জিয়ার জামিন আবেদন আবারও খারিজ কুষ্টিয়ায় ট্রাকচাপায় বৃদ্ধা নিহত
৩৭০

ইউপি চেয়ারম্যানের অসুস্থতায় পরিষদ চালাচ্ছেন ছেলে

আজকের খুলনা

প্রকাশিত: ১৯ জানুয়ারি ২০২০  


খুলনার কয়রা উপজেলার দক্ষিণবেদকাশি ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান গাজী শামসুর রহমানের অসুস্থতায় তার ছেলে মশিউর রহমান মিলন পরিষদের সার্বিক দায়িত্ব পালন করছেন। মিলন স্থানীয় জোড়শিং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক। এ কারনে নিজের সুবিধার্তে বিদ্যালয়ের পাশ^বর্তি জোড়শিং বাজারে পরিষদের অস্থায়ি কার্যালয়ও গড়ে তুলেছেন তিনি। সেখানে বসেই ইউনিয়ন পরিষদের সব কার্যক্রম চালনো হচ্ছে। এতে করে পরিষদের সদস্য ও সাধারণ মানুষের মাঝে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। 

দক্ষিণ বেদকাশি ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান-১ রমেশ চন্দ্র সরকার অভিযোগ করেন, এক বছরেরও বেশি সময় ধরে চেয়ারম্যান অসুস্থ থাকায় তার ছেলে পরিষদের সব কিছু নিজের ইচ্ছামত চালাচ্ছেন। ইউনিয়নের উন্নয়নমূলক কাজ থেকে শুরু করে সবকিছুতেই তিনি নাক গলাচ্ছেন। এতে করে পরিষদের দাপ্তরিক কার্যক্রমে জটিলতা দেখা দিয়েছে। নিয়ম অনুযায়ি চেয়ারম্যান দায়িত্ব পালনে অক্ষম হলে অথবা কোন কারনে দেশের বাইরে গেলে প্যানেল চেয়ারম্যান-১ দায়িত্ব পালন করবেন। কিন্তু সে নিয়ম মানা হয়নি। তিনি বলেন, ‘মাঝে মধ্যে পরিষদের জরুরী কোন সভায় চেয়ারম্যানকে ধরাধরি করে হাজির করা হলেও তিনি চেয়ারে চুপচাপ বসে থাকেন। তাঁর হয়ে ছেলেই সব কাজ করে দেন।’ 

ইউপি সদস্যদের অভিযোগ, চেয়ারম্যানের অসুস্থতার সুযোগে তার ছেলে মিলন গত এক বছরে ইউনিয়ন পরিষদের বিভিন্ন খাত থেকে অর্ধ কোটি টাকা আত্মসাত করেছেন। এর মধ্যে ইউনিয়নের প্রায় ২৬ হাজার মানুষের নতুন করে অনলাইনে জন্মনিবন্ধন করাতে মাথাপিছু ১০০ টাকা করে আদায় করা হয়েছে। এভাবে প্রায় ২৬ লাখ টাকা আদায় করে আত্মসাত করেছেন তিনি। এর প্রতিবাদ করায় ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টারের উদ্যোক্তা নাজমুল ইসলামকে বের করে দেওয়া হয়েছে। 

ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য মোঃ আসের আলী অভিযোগ করেন, মিলনই এখন ইউনিয়নের অলিখিত চেয়ারম্যান। তার ইচ্ছামাফিক পরিচালিত হচ্ছে ইউনিয়ন পরিষদের সকল কার্যক্রম। তিনি স্কুলের শিক্ষকতার দায়িত্ব পালন না করে সর্বক্ষন ইউনিয়নের বিভিন্ন প্রকল্পের খবরদারি করে থাকেন। এতে পরিষদের গোপনীয়তা নষ্ট হচ্ছে। 
তিনি বলেন, দূর্যোগে গৃহহীন মানুষকে ঘর তৈরী করে দেওয়ার কথা বলেও মিলন ইউনিয়নের বিভিন্ন লোকের কাছ থেকে প্রায় ১০ লাখ টাকা আদায় করেছেন। ঘর না পেয়ে টাকা ফেরত চাওয়ায় তার লোকের কাছে অনেকেই নিগৃত হয়েছেন। ঘরের টাকা ফেরতের দাবীতে ইউনিয়নের শতাধিক নারী পুরুষ পরিষদের সামনে মানববন্ধন করেছেন বলেও জানান তিনি।   

ইউনিয়নের সংরক্ষিত ওয়ার্ডের সদস্য মরিয়ম খাতুন বলেন, ‘আমার ওয়ার্ডের ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্তদের ঘর তৈরী করে দেওয়ার কথা বলে মিলন ১ লাখ টাকা নিয়েছেন। ঘর না পেয়ে ওইসব লোকজন আমাকে সাথে নিয়ে চেয়ারম্যানের কাছে অভিযোগ করতে গেলে তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। পরে মিলন তার লোকজন দিয়ে ওইসব ক্ষতিগ্রস্ত লোকজনকে হুমকি দিয়েছেন।’ 
তিনি অভিযোগ করেন, ইউনিয়ন পরিষদের বিভিন্ন অর্থ আত্মসাত করে মিলন নিজের নামে ‘মানব উন্নয়ন সংস্থা’ নামে একটি সংগঠন করেছেন। সেখান থেকে এলাকার দরিদ্র মানুষকে চড়া সূদে ঋণ দেওয়া হয়। 

এ ব্যাপারে  জানতে চাইলে মশিউর রহমান মিলন বলেন, ‘আব্বু অসুস্থ থাকায় আমি কিছু কাজ করি, এই যেমন পরিচয়পত্র দেওয়া, দু’একটি প্রকল্পের খোঁজখবর নেওয়া। এর বাইরে সব অভিযোগ মিথ্যা।’ অস্থায়ি কার্যালয়ের কথা স্বীকার করে তিনি জানান, তার বাবা ইউনিয়ন আ’লীগের সভাপতি হওয়ায় স্থানীয় জোড়শিং বাজারে একটি অফিসে বসতেন। এখন অসুস্থতার কারনে ইউনিয়ন পরিষদে তার পক্ষে যাওয়া সম্ভব না হওয়ায় সেখানে বসেই সব কার্যক্রম চালাচ্ছেন। 

ইউপি চেয়ারম্যান গাজী শামসুর রহমান বলেন, ‘আমার অসুস্থতার সুযোগে ইউনিয়ন পরিষদের কয়েকজন মেম্বর আমাকে বিতর্কিত করার চেষ্টা করছে। একই সাথে আমার রাজনৈতিক প্রতিপক্ষরাও তাদের সাথে সুর মিলিয়েছে।’

এসব অভিযোগ প্রসংগে জানতে চাইলে স্থানীয় সরকার খুলনার উপ-পরিচালক ইশরাত জাহান বলেন, ইউনিয়ন পরিষদের নিয়ম অনুযায়ি চেয়ারম্যান দায়িত্ব চালাতে অক্ষম হলে প্যানেল চেয়ারম্যান-১ দায়িত্ব পাবেন। চেয়ারম্যানের দায়িত্ব তাঁর ছেলে পালন করতে পারেন না। এটা বেআইনী। অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। 

 

আজকের খুলনা
আজকের খুলনা
খুলনা বিভাগের পাঠকপ্রিয় খবর