• মঙ্গলবার   ২৬ জানুয়ারি ২০২১ ||

  • মাঘ ১৩ ১৪২৭

  • || ১২ জমাদিউস সানি ১৪৪২

আজকের খুলনা

আদম পাচারকারী চক্রের খপ্পরে পড়ে সর্বশান্ত তিন যুবক

আজকের খুলনা

প্রকাশিত: ২৯ ফেব্রুয়ারি ২০২০  

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে একটি আদম পাচারকারী চক্রের পাল্লায় পড়ে সর্বশান্ত হয়েছেন দরিদ্র পরিবারের তিন যুবক। শুধু তাই নয়, দেশে ফিরে ঐ যুবকরা যেন কোনো আইনগত ব্যবস্থা নিতে না পারে সেজন্য আদম পাচারকারীরাই মিথ্যা মামলা দায়ের করেছে ভুক্তভোগী যুবকদের বিরুদ্ধে।

আজ শনিবার বেলা ১১টায় সীতাকুণ্ড প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করেন ভুক্তভোগীরা।

এতে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন উপজেলার সৈয়দপুর ইউনিয়নের পশ্চিম বাকখালী গ্রামের মো. শাহ আলমের ছেলে মো. কামরুল হাসান। তিনি ও একই গ্রামের নুরুল আবচারের ছেলে মো. জয়নাল আবেদীন ও মো. গিয়াস উদ্দিনকে কাতারে ৫০ হাজার টাকা বেতনের কাজের ভিসা দেবার লোভ দেখিয়ে জনপ্রতি ৬ লাখ টাকা করে মোট ১৮ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয় একই ইউনিয়নের বাকখালী গ্রামের মৃত মিজানুল হকের ছেলে আদম পাচারকারী শফিকুল ইসলাম আনু, পূর্ব সৈয়দপুর গ্রামের আবুল কাশেম ও তার ছেলে নুর নবী। তারা বিদেশে বসে ভিসার আশ্বাস দেবার পর দেশে তাদের হয়ে দেশে টাকা গ্রহণ করেন আনুর স্ত্রী রোকসানা, নুর নবীর স্ত্রী তাছলিমা আক্তার এবং বাকখালী গ্রামের নুরের ছাপা ও মো. ইউসুফ।

এদিকে টাকা প্রদানের শেষে কামরুল হাসান, জয়নাল আবেদীন ও মো. গিয়াস উদ্দিনকে কাতারে নিয়ে গেলেও সেখানে একটি অস্তিত্বহীন কম্পানির নামে ভিসা প্রদান করা হয়। ফলে তারা চরম বিপাকে পড়েন। এ সময় এর কারণ জানতে চাইলে তাদেরকে একটি কক্ষে আটক করে রেখে নির্যাতন শুরু করে। বাধ্য হয়ে তারা কাতারে অবস্থানকারী কয়েকজন বাংলাদেশি আজম খান, ইউসুফ আলী, সোহরাব হোসেন ও আনোয়ার হোসেনকে সব খুলে বললে তাদের মধ্যস্থতায় কাতারে একটি সালিশী বৈঠক হয়। এতে আদম পাচারকারী সফিকুল ইসলাম আনু একটি স্ট্যাম্প করে টাকা ফেরত দিতে অঙ্গীকার করে সেই মোতাবেক তিনি প্রত্যেককে ৫ লাখ টাকা করে চেক প্রদান করে। কিন্তু চেক নিয়ে ব্যাংকে গেলে দেখা যায় একাউন্টটি বন্ধ।

এসবের পর চাকুরির আশা ত্যাগ করে তারা ১৯ জানুয়ারি দেশে ফেরেন হতভাগ্য তিন যুবক। কিন্তু তাদেরকে দেশে ফিরতে দেখেই আদম ব্যবসায়ী সফিকুল ইসলাম আনুর স্ত্রী রোকসানা বাদী হয়ে মিথ্যা বানোয়াট গল্প সাজিয়ে উক্ত চেক ও স্ট্যাম্প উদ্ধারের মামলা করে। এই মামলায় তিন যুবক এখন হয়রানিতে পড়েছেন। বাধ্য হয়ে তারা এসবের প্রতিকার চেয়ে সংবাদ সম্মেলন করেন।

ভুক্তভোগীরা জানান, চক্রটি একই পন্থায় আরো অনেক যুবকের সর্বনাশ করেছে। ফলে দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে তাদের বিরুদ্ধে মামলাও দায়ের করা হয়। কিন্তু এভাবেই উল্টো মামলাসহ জটিলতা সৃষ্টি করে তারা বেঁচে যাচ্ছে।

সংবাদ সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন ফজলুল হক, ইকবাল হোসেন, সোহরাব হোসেন, নুর উদ্দিন ও ডাক্তার সজল শীল।

আজকের খুলনা
আজকের খুলনা